শনিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

ই-কমার্স কি? কত প্রকার, কি কি ? ই- কমার্স এর সুবিধা কি?

ই- কমার্স কী? কত প্রকার, কি কি  ? ই- কমার্স এর সুবিধা কি?

ই- কমার্স বলতে আমরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যবসায়িক লেনদেন কার্যক্রম করাকেই বুঝি 

আমরা  আরও একটু সহজ ভাষায় বলতে পারি , ইলেকট্রনিক যন্ত্রের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনা করা বা প্রয়োজনীয় কোন পণ্য কেনাকাটা করাকেই ই- কমার্স বলা হয়৷ 

এককথায় বলতে গেলে যে কোনো ব্যবসা ইলেক্ট্রনিক্সের মাধ্যমে পরিচালনা করাকেই ই- কমার্স বলা হয় ৷ 

আরেকটু সহজে বলতে পারি, ই- বাণিজ্য বা ইলেকট্রনিক কমার্সকে সংক্ষেপে ই- কমার্স বলা হয় ৷ 

ই- কমার্স যা কম্পিউটার , মোবাইল ফোন বা ট্যাবলেট ব্যবহারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে ৷ 

উদাহরণ হিসাবে বলতে পারি , 

অনলাইন কেনাকাটা : অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রেতারা প্রথমে পণ্যে বিক্রির জন্য একটি এ্যাড দিয়ে থাকেন , সেটা দেখে ক্রেতারা ক্লিকের মাধ্যমে ক্রয় করে থাকেন৷ 

যেমন : Amazon.com এই ওয়েবসাইট থেকে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের পছন্দের পণ্য কেনাকাটা করে থাকেন ৷ 

এরকম বাংলাদেশের কয়েকটি অনলাইন শপিং এর ওয়েবসাইটের লিংক হচ্ছে - 

www.bagdoom.com,
www.rokomari.com,
www.ajkerdeal.com
www.chaldal.com
www.daraz.com  ইত্যাদি।

ই- কমার্স ১৯৯০ এর দশক এবং ২০০০ এর দশকের প্রথম দিকে যখন ইন্টারনেট আ্যাক্সেসের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জনপ্রিয় অনলাইন বিক্রেতাদের আবির্ভাবের মাধ্যমে এই মাধ্যমটির আওতা বেড়েছে ৷ তখন Amazon ১৯৯৫ সালে জেফ বেজোসের গ্যারেজে একটি বই - শিপিংয়ের ব্যবসা হিসাবে কাজ শুরু করে ৷ 

eBay যা গ্রাহকদের অনলাইনে একে অপরের কাছে পণ্য ও সেবা বিক্রি করতে সক্ষম করে৷ 

এভাবে ধীরে ধীরে ই- কমার্স আজকে এত  জনপ্রিয়তার শীর্ষে৷ 

এছাড়া রয়েছে ইলেকট্রনিক পেমেন্ট : আমরা ইলেকট্রিক পেমেন্ট এর মাধ্যমে অনলাইন থেকে কিছু কেনার সময় তার দাম পে করে থাকি একেই ইলেকট্রনিক পেমেন্ট বলা হয় ৷ 

ই পেমেন্ট  নানারকম অপ্রয়োজনীয়তা থেকে ও রেহাই দেয়৷ যেমন কোন মেইলিং করতে হয়না ইত্যাদি - 

উদাহরণ হিসেবে নিচে এরকম কয়েকটি ই- পেমেন্ট লিংক দেওয়া হচ্ছে - 
www.easy.com.bd

 www.paypoint.bd

shurjorajjo.com.bd


এছারও আপনারা অনলাইন নিলামের মাধ্যমে কেনাবেচা করততে পারবেন ৷ 

আরও রয়েছে ইন্টারনেট ব্যাংকিং : সরাসরি ব্যাংকে না গিয়েও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা পাওয়া যায়৷ এটা ইকমার্সের একটা বিরাট সফলতা ৷ 

তারপর দেখুন অনলাইন টিকেটিং : অনলাইন টিকেটিং সেবার মাধ্যমে আপনি ঘরে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে বিমান, রকেট, ট্রেন , বাস এমনকি সিনেমা হলের টিকেট সহ যেগুলো অনলাইন টিকেটিং এর আওতায় রয়েছে সেগুলোর সেবা পেতে পারেন কোনরকম হয়রাণি বা ঝামেলা ছাড়াই ৷  যেমন ধরুন আপনি ট্রেনের টিকেট কিনতে চাচ্ছেন তার জন্য প্রথমে আপনাকে ট্রেন স্টেশনে গিয়ে সিরিয়ালে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও দেখা যায় বেলা শেষে আপনি টিকেট পাননি৷ এই ঝামেলা থেকে বাঁচতে আপনি কোথাও না গিয়ে ঘরে বসেই হাতে থাকা মোবাইল দিয়ে 
www.esheba.cnsbd.com থেকে আপনি চাইলেই কিনতে পারেন ৷ 

ই-কমার্স প্রধানত চারভাগে ভাগ করা হয়েছে ৷ 

1) Business to Business (B2B) 
এটি হলো এমন একটি পদ্ধতি  যেখানে এক ব্যবসার সাথে অন্য একটি ব্যবসার লেনদেন হয়৷ যেখানে গ্রাহক গ্রহীতা পণ্যের উৎপাদক , খুচরা বা পাইকারী বিক্রেতা জড়িত তারা শুধু ব্যবসার জন্য লেনদেন করে থাকবে ৷ 

Business to Consumer (B2C)
যখন ব্যবসায়ীরা কাস্টমার বা ভোক্তাদের কাছে পণ্য বিক্রির জন্য অনলাইনে অবতীর্ণ হয় তখন তাকে B2C বলে।

Consumer to Consumer (C2C)
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় একজন ভোক্তা নিজেই বিক্রেতা হয়ে অন্য ভোক্তার কাছে নিজের পণ্য বা সেবা বিক্রি করার প্রয়াস চালায়। একে বলে C2C।

ই-কমার্স ব্যবসায়ের কয়েকটি উদাহরণ হচ্ছে , 

Retail: কোন প্রকার মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি গ্রাহকের কাছে পণ্য বিক্রয়।

Dropshipping: আপনি তৃতীয় পক্ষের প্রস্তুতকারক বা সরবরাহকারী থেকে পণ্যটি কিনতে এবং সরাসরি গ্রাহকের কাছে পণ্যটি বিক্রি করে দিতে পারেন।

Digital products: টেমপ্লেট, যেকোনও কোর্স, ই-বুকস, সফ্টওয়্যার, বা মিডিয়া ফাইল বা ডাউনলোডযোগ্য আইটেমগুলি যা ব্যবহারের জন্য কিনতে হয়। এগুলোও ইকমার্স ব্যবসায়ের একটি বড় অংশ।

Wholesale: পাইকারি পণ্য সাধারণত একজন খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি হয়, যারা পরবর্তীতে পণ্যটি গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করতে পারে।

Services: কোচিং, রাইটিং, প্রভাবক ইত্যাদি সার্ভিস হিসাবে বিবেচিত। এগুলোও অনলাইনে বিক্রি করার মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করা যায়।

Subscription: গ্রহকগণ কেবল একবার অর্ডার করা দরকার এবং তারপরে পণ্যগুলি তাদের সময়মতো অন্তর্ভুক্ত করা হয়, সাধারণত মাসে একবার।

–কমার্সের সুবিধা:

ডিজিটাল বাংলাদেশ বা স্মার্ট বাংলাদেশে  এখন ইলেকট্রনিক  ই- কমার্স আমাদের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে ।

ই কমার্স বিভিন্ন ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে উদাহরণস্বরূপ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার, ইন্টারনেট , বিপণন, অনলাইন ডাটা ইন্টারচেঞ্জ, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট ছাড়াও অনলাইন লেনদেন প্রক্রিয়া প্রায় সম্পূর্ণরূপে ই-কমার্স দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে।

2000 সালের পর থেকে ই কমার্স ব্যাপকভাবে পৃথিবীব্যাপী অনলাইন ট্রানজেকশনের মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

2013 সালে ই-কমার্স এর মাধ্যমে পৃথিবীব্যাপী 1.2 বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য বেচাকেনা হয়। দিন দিন ই-কমার্সের গুরুত্ব আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।পাশাপাশি আমাদের দেশেও ই কমার্স এর চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় Daraz,

তথ্যসূত্র  লিংকে : 



বিশেষ দ্রষ্টব্য : কপিরাইট সংরক্ষিত ৷ 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

গ্রামীণফোনের সিম থেকে ব্যালেন্স ট্রান্সফার করার নিয়ম

  গ্রামীণফোনের সিম থেকে ব্যালেন্স ট্রান্সফার করার নিয়ম  মাইজিপি থেকে খুব সহজেই ব্যালেন্স ট্রান্সফার করতে পারেন৷ ব্যালেন্স ট্রান্সফার করার স...